শান্তা মিত্রের গুচ্ছকবিতা--
মৃত্যুভয়
হায়রে বাংলা মা তোমার সবুজ শ্যামল রূপ যেন আস্তে আস্তে ফিকে হচ্ছে। বঙ্গে যে তোমার সন্তান গুলো কষ্টে আছে।
মানুষগুলো যে অক্সিজেনের অভাবে সব দিশেহারা হচ্ছে মৃত্যুর মুখে ঢলছে। চারিদিকে হাহাকার মৃত্যুর হাতছানি, কে যাবে আর কে রবে। চোখের সামনে যে রোজ শেষ হতে দেখছি কতো প্রিয় ও আপনজন কে।
হোম আইসোলেশন ভ্যাকসিন কোভিদ১৯ অক্সিজেন মাস্ক স্যানিটাইজার সোশ্যাল ডিসটেন্স লকডাউন আক্রান্ত মৃত্যু এসব দেখেশুনে ক্লান্ত মন যে ভারাক্রান্ত।
করোনা মহামারী যেন আগুনের শিখার মত চারিদিকে মানুষকে গ্রাস করে চলেছে প্রতিনিয়ত। এ কোন মহামারি তার রক্তচক্ষু দৃষ্টি কে আমরা উপেক্ষা করতে পারছি না।
হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষের চিতা জ্বলছে ফুটপাতে রাস্তায় শ্মশানে আর ভাসছে মৃত শরীরগুলো নদীতে নদীতে কাঠের স্তূপের মত।
চারিদিকে শুধুই হাহাকার বাঁচতে চাই -বাঁচতে দাও। ভ্যাকসিন দাও গো, অক্সিজেন চাই একটু অক্সিজেন দাও না একটু শ্বাস নিয় প্রাণ ভরে।
শুধু মানুষের করুণ আর্তনাদ- বেঁচে থাকার জন্য। হাঁপিয়ে উঠছি আর দেখতে চাই না এই মৃত্যু মিছিল। কবে পৃথিবী করোনামুক্ত হবে? কবে? সে আশায় বসে আছি।
সেই ফেলে আসা দিনগুলো যে বড়ই ভালো ছিলো। আবার কবে আসবে সেই আলোর দিশা? দেখতে পাবো তো? জানিনা।
চিঠি
আমাকে লেখেনি কেউ একটিও চিঠি।
কত লোকে কত কথা ব’লে চ’লে গ্যাছে
তার তো শাব্দিক নথী নেই কোনো
ব’লে দেওয়া কথা থাকে তখনকার মতো।
আসলে সে তেমনটি বলেনি নাকি!
অন্ততঃ
বলার তো কোনো বাসনা ছিল না।
তবু কোনো চিঠি
আমার গৃহস্থ বাক্সতে
কেউ ফেলে যায়নি কখনও।
চিঠি থেকে চিনে ফেলি
গন্ধমাখা কথা
বুঝে ফেলি,
কে গন্ধ মেশালো।
কিম্বা
এই গন্ধ রসায়নজাত কিনা।
তবু কেউ কোনো চিঠি দিলো না আমায়!
ফুল তুলি
ইথারে কান পাতলেই কথা শোনা যায়---
বাণী, শুভাশিস অথবা অভিসম্পাত
সবই ভাসে বাতাসে, ইথারে
শূণ্য থেকে মহাশূণ্যে।
শেষে একদিন
কার সাথে কে যে মিশে যায়!
কোথায় হারায়!
কোলাহল তো বারণ হলো না আজও
কতকিছু ভাসে, শুধু ভাসে, আর ভাসে
ফুল হয়ে ওঠে না কেউই
সুবাসিত নয় তারা কেউ
সুভাষিত নয় তো আসলে।
শুধু
এর পিঠে ও, আর ওর পিঠে সে
মানুষের কথার বাগান,
নাকি আগাছা জঙ্গল!
কেই বা জানে!
তাই শুধু ফুল তুলি শীতের পোশাকে।
এখনই যেও না
কতবার অনুনয় করেছি যে তাকে---
যেও না। এখনই যেও না।
রাত বহু বাকি রয়ে গ্যছে।
আরও কিছু গান গাও
কথা বলো আরও আরও আরও ।
ঊর্দ্ধশ্বাসে এসো
রুদ্ধশ্বাসে যাওয়ার তো কথা নয়।
তবুও শোনেনি
তবুও শোনে না কেউ বারন-বিরতি
আরও যেন জেদ চেপে বসে
লক্ষ্মীকে হারালে পরে
অলক্ষ্মী পাওয়ার বাসনা
তীব্রতর হয়।
সকলে চড়েছি ব'সে শার্দুলের পিঠে
নিরাপদ বাঘারু হাওদা
কিন্তু নিরাপদ নয় নেমে চ'লে যাওয়া।
তারচেয়ে শুকতারা অন্তর্হিত হলে
হাতে হাত ধ'রে রক্তিম আকাশ দেখাবো
শেষ রাতে অনন্য কবিতা শোনাবো
যেইসব প্রতিশ্রুতি কখনও রাখেনি কেউ
সেই দেশে ঠিক নিয়ে যাবো।
এখনই যেও না।
No comments:
Post a Comment