শংকর ব্রহ্মর একগুচ্ছ কবিতা--
----------------------
১).
ফুরাবে না
•••••••••••••••••••••••••
( পঁচিশে বৈশাখ,রবীন্দ্রনাথকে স্মরণে )
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
তোমার ছবির সামনে দাঁড়ালে
বুকটা গর্বে ফুলে ওঠে,মনটা ভরে যায় আনন্দে,
কিন্তু মাথা আপনিই নত হয়ে আসে।
তোমার কথা ভাবলে
নিজেদের ক্ষুদ্রতা প্রকট হয়ে পড়ে।
তুমি আমাদের প্রেম,তুমি আমাদের মুক্তি
তুমি আমাদের শান্তি।
তোমাকে নিয়ে যত কথাই বলি মনে হয়,
বলা হল না কিছুই
তোমাকে যতই জানি মনে হয়,
জানা আরও রয়ে গেল কত বাকী।
তোমাকে বুঝতে বুঝতে একটা জীবন আমাদের ফুরিয়ে যাবে অনায়াসে,
কিন্তু তোমাকে জানা আমাদের ফুরাবে না কোনদিনই।
-------------------------------------
২).
ভালবাসা না পেলে
----------------------------
ভালবাসা না পেলে আমি সব কিছু লন্ডভন্ড করে দেব,
বন্যা ডেকে আনব আমি ভূমিকম্প ঘটাব,
ভালবাসা না পেলে নিজের বুকের রক্তে ভিজিয়ে নেব রুমাল এবং সেই রুমালে ঢেকে দেব সূর্যকে
টকটকে লাল রোদ ছড়িয়ে পড়বে তোমাদের পৃথিবীতে।
ভালবাসা না পেলে আমি কুকুরের বকলসে বাঁধব ঈশ্বর
এবং সেই ঈশ্বর নাচ দেখাবে বাঁদরের,
পাপের ভয় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়বে তোমার হৃদয়ে
ভালবাসা না পেলে সকলকে জাহান্নামে নিয়ে যাব,
খুলে দেব বিপথের সদর দরজা
হো হো করে হেসে উঠব নরকের পথে যাত্রা শুরু হলে
ভালবাসা না পেলে আমি মানব না কিছু আর,
ঈশ্বর মানবো না,মানবো না কোন ব্যাভিচার
শুধুমাত্র ভালবাসা না পেলেই,
আমি একেবারে ভালবাসাহীন হয়ে যাব।
---------------------------------
৩).
তোমার জন্য
-----------------------
বুকের ভিতর কান পেতে আজ
কান্না আমার কেউ শোনে না,
কেউ বোঝে না দুঃখ আমার
রুক্ষতাময় মরুভূমির পাশেই ছোটে স্নিগ্ধ নদী,
নিজের পায়ের প্রতিধ্বনির
শব্দে কেন বুক কাঁপে আজ?
মিষ্টি নারী, দু্ষ্টু নারী তোমার জন্য সব ছেড়েছি
সুখী সময়, গোপন আশা
গুল্ম-লতার পাগল করা ভালবাসা
সব ছেড়েছি এক লহমায়,
এখন আমি পথের কাঙাল পথে ঘুরেই সময় ফুরায়,
ঘরের ভিতর থাকলে একা দুঃখ বাড়ে
মনটা করে উড়ুউড়ু সারাটা দিন থাকলে ঘরে,
অনেকখানিই কষ্ট বাড়ে
ছলকে পড়ে কত কথাই ধুলোর ঝড়ে,
বাস্তুভিটে,হলুদ চিঠি সব কিছু আজ নিলাম করে
দাঁড়িয়ে আছি একলা হয়ে তোমার জন্য পথের উপর
পথ নাকি ঘর কোনটা খুঁজে মরছ তুমি হে শ্রীমতী?
সর্বনাশী এই কি জীবন?
নাকি শুধু আত্মগ্লানির গোপন কারণ আত্মরতি?
----------------------------
৪).
মায়াবী বন্ধনে
--------------------------
একদিন ভোরে উঠে জেনে যাব জীবনের মানে,
প্রিয় প্রভাত এসে বলে দেবে কানে
জীবনের বিস্তার কোথায়?
একদিন বাতাসের স্নিগ্ধতাও
আমাদের বুঝে নিতে দেবে,জীবনের রহস্য কোথায়,
কেন যে প্রেমের ফাঁদ পাতা থাকে বিশ্ব-ভুবনে?
রাতের শিশির এসে একদিন বলে যাবে ডেকে,
তুমি কেন মাঝে মাঝে দূরে থেকে,আমাকে কষ্ট দাও ,
নিজেও দুঃখ কিছু কম পাও তা তো ঠিক না যে।
একদিন বর্ষার মেঘ এসে আমাকে যে ডেকে নিয়ে,
চলে যাবে দূরে আমি আসব না ফিরে আর।
একদিন আজানের সুরে
আকাশের নক্ষত্ররা সব কেঁপে উঠবে ভোরের বাতাসে,
জীবনের রক্ত প্রবাহে এত সব আশ্চর্য বিস্তার,
আর গোপন রহস্য এত রয়ে গেছে বলে
আজও তাই বেঁচে থাকা, আগামী স্বপ্নের কথা ভাবা,
নতুবা থোড়াই তোয়াক্কা করি, জীবনের মায়াবী বন্ধনে।
-------------------------------
৫).
ভালবাসা বলতে
-----------------------------
কেন যে এত ভালবাসা ভরে দিলে বুকের ভিতর
হায় ঈশ্বর দম ফেটে যাবার জোগাড়,
তার পায়ের নূপুর অকস্মাৎ বেজে ওঠে হৃদয়ে আমার
মনের ভিতর ফুটে থাকে সহস্র গোলাপ, জন্য তার।
কখনও মাছের মতো ভেসে থাকি জলে তাকে ভেবে,
আবার কখনও ছুটে যাই তার কাছে মনে মনে,
হাওয়ায় পারিজাত কিংবা হাস্নুহানার গন্ধ হয়ে।
লোকালয় পার হতে গিয়ে দেখেছি
কত না অবুঝ নদী কাঁদে,নীরবে নিভৃতে,
গায়ে গঞ্জে খুশিতে বেচা-কেনা করেছি সময়,
মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়িয়েছি একা
লোভের সামগ্রী বলতে ছিল কাঁচপোকা আর ফড়িং,
আর কিছু নয়।
ভালবাসা বলতে বুঝতাম টলটলে রোদ্দুরের দিন শীতের দুপুরে
আর জোনাক-জ্বলা রাত গাঢ় অন্ধকারে
এর বেশী কিছু নয়।
আর আজকাল ভালবাসা বলতে
কেন যে শুধু তার কথা মনে পড়ে যায়?
হাওয়ায় হাওয়ায় পারিজাত কিংবা হাস্নুহানা নয়
তার নিজস্ব নিবিড় গন্ধ ভেসে আসে অকস্মাৎ নাকে
এর বুঝি কোন ভিন্ন মানে থাকে?
---------------------------------
৬)
দংশন
---------------------
চোখ বুজলেই নানা স্বপ্ন,চোখে এসে ভাসে
আর চোখ মেললে পরে?
তোমার মায়াবী মুখ হাসে ;
এ'যদি অসুখ হয়, তবে সেটা না সারাই ভাল।
কানে তালা লাগলেও,তোমার আপ্লুত স্বর
কেন যে হৃদয়ে ঢেউ তোলে? এ শুধু পাগলামী নাকি আঁধি,
বল তো কে সারাতে চায় এই ব্যাধি?
কিন্তু কখনও যদি মনে ,
তোমার আমিষ গন্ধে
জিহ্বা ধারালো হতে চায়?
তবে যেন সেই জিভে
আমার বিবেক এসে, আলপিন ফোটায়।
No comments:
Post a Comment