নিরাপদ বিশ্বাসের দুটি কবিতা--
১
নতুন বছর
'বাবা'কে চিঠি'
বাবা তোমায় লিখছি চিঠি
লিখতে জানি না কো,
ভুল হলে ক্ষমা ক'রো
চিঠি পড়ে দেখো।
ভালো লাগবে যখন জানবে
আমি লিখেছি,
বুকটা তোমার উঠবে ভ'রে
(জেনে) লিখতে পেরেছি।
নতুন বছর খুশীর দিনে সবাই ঘরে আছি,
আসবে তুমি জেনে তোমার পোষাক গুছিয়েছি।
ভাবছি তুমি আসবে যখন
আমি ঘুমিয়ে যাবো,
প্রতিবারের মতো তোমায়
আর কি দেখা পাবো??
সবাই থাকে অনেক কাছে
তুমি থাকো না কো,
সবার বাবা ঘরে আসে
তুমি আসো না কো।
নতুন বছর গুরুজনদের
প্রণাম করতে গেছি,-
চোখের জলে ভেজা হাত মা'য়ের
মাথায় ঠেকিয়েছি।--
যখন বলি তোমার কথা
মা কেঁদে কন--'খোকা'-,
বাবার মতো বড় হও
(নইলে)বাবা বলবেন বোকা।
আমি বোকা 'না মা বোকা
বুঝতে পারি না যে--,
নতুন বছর সবার আসে
তোমার আসে না যে।
সবার অফিস ছুটি হয়
তোমার হয় না??
দেশের কাজে এত ব্যস্ত
আমায় মনে পড়ে না!
ঝড়ের রাতে কখনো ঘুম ভাঙলে দেখি
তোমার ছবি বুকে নিয়ে,
মা ঘুমিয়ে র'ন একি!!
বোন'টি আমার নেতিয়ে পড়ে
ক্ষুধা-কাতর'জ্বালা--
বিষন্ন মন ধুঁকে মরে
পায়না শান্ত-"আলা"।
বড় হ'য়ে বড় হব
হব তোমার মতো বীর,
কাশ্মীরে, --নয় মা'ও দমনে
হব দুষ্টু-নতশির।
তখন তুমি বুঝবে ব্যথা
না ফিরলে ঘরে,
বলবে খোকোন আয় একটিবার
এমন করিস না রে।
মা বলেছেন দেশ না কি হয়
"স্বর্গের চেয়েও বড়,
আমি বলি তুমি আমার
তার থেকেও বড়।
নতুন বছর নতুন দিনে
একটি কথা রাখো
ছুটি নিয়ে একটিবার
আমায় এসে দেখো।
(শিশুপাতা, থেকে--কলমে--নিরাপদ বিশ্বাস)
একুশে পা
ঝলসে গেল সব!
জ্বলছে বাংলা ,
জ্বলুক বাংলা
তাতে ক্ষতি কি?
এইতো সবে একুশে পা।
রক্ত গড়িয়ে যাচ্ছে ফুট পথে
এত রক্ত!!
শোষক না শাসকের
বোঝার উপায় নেই
পায়ে পায়ে মাড়িয়ে যাচ্ছে হাজার বছর;
দাপট মিছিল আর
স্লোগান এর ব্যানারে
উন্নয়ন প্রকল্প
গড়িয়ে পড়ছে
মাঠে,জলে,মাটিতে।
বাড়ছে ব্যবধান
ভাঙছে বুক!
কাঁপছে শ্মশান!
রক্ত তবুও গড়িয়ে যাচ্ছে----
শেকড়ের সন্ধানে
হাতড়ে বেড়ানো মানুষের
একগুচ্ছ কিংবদন্তি
পায়ে পায়ে জীর্ণ!!
শূণ্য-শায়রে বক্ষ ভরি
সান্তনা বাণী
বলি খেতে খেতে
এপাট,ওপাট--'লোপাট'.......
তাতে ক্ষতি কি
এইতো সবে একুশে পা।
রক্ত গড়িয়ে যাচ্ছে ফুটপথে
এত রক্ত!!
অথচ কাকনের শরীরে এক ফোটা রক্ত নেই!
ধীরে ধীরে মৃত্যু এসেছে দ্বারে তার।
পাশে শুয়ে আছে অশীতিপর বৃদ্ধা
চক্ষু কোঠরাগত
-অনাহারে অনিদ্রায়
এক ফোঁটা রক্তের অপেক্ষায়-;
তার শেষ সম্বল
কাকনের জন্য।
ঝলসে গেল সব!
জ্বলছে বাংলা
তাতে ক্ষতি কার?
ফুটপথের কুকুরটা
দু'বার চেঁচিয়ে ই কাত
অগ্নিদগ্ধ তার দেহ;
ভাঙচুর আর মিছিলে
সেও পড়েছে বিরোধীদের আওতায়।
টাইটানিকের সিম্ফোনি
বেজে উঠতে কতক্ষন
কাঁপাকাঁপা বাতাসে-----
সনাতন বিশ্বাস হাঁটা পথে হেঁটে
ধুখা চন্ডীদাস
বাকরুদ্ধ সে!
শ্রাবণ বরষাতে
জলজ হিমের আর আমেজ নেই
নেই ফাগুন পলাশে রঙ;
লুৎফুন্নেসার প্রদীপ থমকে গেছে
সিরাজের কবরে!
দিক-দাহি মরমে পুড়ছে
জীবনানন্দ-জসীমউদ্দীন
তাতে ক্ষতি কি
এইতো সবে একুশে পা!!
(ছায়াপথ, কলমে--নিরাপদ বিশ্বাস)
No comments:
Post a Comment