তমা কর্মকারের দুটি কবিতা--
বিশ্বকবি
দয়াহীন সংসারে দয়ার সাগর তুমি,
কোথাও তুমি ধূ ধূ প্রান্তর শুধুই মরুভুমি |
তুমি সৃষ্টি তুমি রসাতল
কোথাও তুমি শুকনো কোথাও কপোত ভেজা আঁখি জল |
তুমি নীর তুমি বাসাহীন যাযাবর,
তুমিই অনন্ত তুমিই প্রেমের সাগর |
তুমি কবি দেবেন্দ্রর আকাশে একমাত্র রবি
ওগো তুমি যে বিশ্বকবি ছবির কবি|
সরদা মায়ের সুসন্তান
তোমার জন্যই বেড়ে উঠেছে আজি ভারত ভূমির সম্মান|
তুমি আছো বিশ্বের হৃদয়ে
আছো বিপদে আপদে অভয়ে|
তুমি হৃদয় বন্ধনে আবদ্ধ করেছো ভায়ে মায়ে ঝিয়ে
বেঁধেছো প্রেমের সুতো দিয়ে |
নাম তার দিয়েছো রাখী বন্ধন,
এভাবেই একে অপরের সাথে ঘটিয়েছো এক মহামিলন |
আজ কোথা আছো তুমি
বলে যাও মোরে,
সবাই চারিদিকে খুঁজে ফিরি রেখে তোমায় আপন অন্তরে |
সখা তুমি স্বামী তুমি তুমিযে সন্তান
তাইতো তোমায় নিয়েই বিশ্বে এতো আয়োজন |
কাছে থাকো দূরে থাকো যেথা থাকো
একটি বার ফিরে এসো সুজন
আজ বিশ্বের মহামারী ঠেকাতে যে তোমাকেই প্রয়োজন |
নাতির দাদু তুমি, তুমি বিধাতার দান,
আরেক বার এই ধরায় ফিরে এসে রাখো
আমাদের চাহিদার মান |
প্রণামের সাথে আজি আমরাও জানাই
হে বিশ্বকবি তোমায় তোমার প্রাপ্য সম্মান |
নারী কণ্ঠে
তমা কর্মকার
ওহে কবি নারী কণ্ঠে চিৎকার করে আজ শুধু জীবনের কথা বলি,
তুমি লেখ আমার হাসি কান্না বিরহের কথা,
তবু বলি একি জীবনেরই বর্বরতা?
নাকি সবুজ হারিয়ে হলদেটে বিবর্ণ শুকনো পাতা|
হিসাব মিলাতে অতীতের কবিতা ভুলে আজি গুছিয়ে রাখো জীবন হিসাবের খাতা|
সেজে শক্ত ভারী বেজায় জটিল সেখানে পাবেনা কোনো ছাড়,
হিসেবের সুদ নেবে কষে কাল্পনিক কাব্য কথায় ভুলবে নাতো কেউ আর|
তাইতো নারী কণ্ঠে বলি ওগো কবি শুধু কাল্পনিক কাব্য নয় কবিতা নয় যদি পারো লেখো?
জীবনের ইতিহাসের কথা ভুলে দৃষ্টান্ত মূলক বর্তমান ভবিষ্যতের কথা|
নর নয় নারী নয় এমনকি বৃহন্নলাও নয় লেখো ভুলে যাওয়া মানুষের মনুষ্যত্বের কথা|
তোমার কবিতার পাতা জুড়ে লেখো,
মানুষের ভুলে সবুজকে হারিয়ে ফেলার কথা,
একবার ভেবে দেখোনা কবি তোমার লেখায় কি?
চেতনাহীন মানুষের মাঝে পারেনা ফিরিয়ে আনতে চেতনা|
প্রকৃতি আজ হাত পেতে তোমার কাছে ভিক্ষে চাইছে,
ফিরিয়ে দিতে তার ভারসাম্য|
পারোনাকি কবি তোমার সজল লেখায় ফিরিয়ে দিতে?
প্রকৃতির ভারসাম্য ফিরিয়ে প্রাণীকুল কে রক্ষা করতে?
আজ নারী রূপে আমি ধরিত্রী চিৎকার করে বলছি,
তোমাদের অত্যাচারে আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে,
কবি তোমার লেখনীতে ফিরিয়ে দাও আমায় আমার মুক্ত বাতাস|
কবিতা ছোট্ট নিয়ম
কলমে-তমা কর্মকার
চিৎকার চেচামেচি কোলাহল কলরব নয়
স্বচ্ছ শান্ত পরিবেশ সুস্বাস্থ্যকর হয় |
রোগ হলে ডাক্তার দেখাতে হয়, করতে হয় সেবা
এই কথা গুলি জানে সবাই কিন্তু মানে কজনই বা |
হয়তো হাতে টাকা নেই নয়তো গাফিলতি
যার হয় মর্মান্তিক ভয়ঙ্কর পরিণতি |
পরিষ্কার জলজমে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে
ডেঙ্গু মশার ডিমে ছেয়ে গেছে দেশে |
তাই হতে হবে সবাইকে মানসিক সতর্ক
করতে হবে জঞ্জাল সাফ না করে বিতর্ক|
নিজে ও পরিবারের যদি রাখতে চাও সুস্থতার রেশ
মেনে চলো ছোট্ট নিয়ম গুলি প্রকৃতির সাথে তোমরাও থাকবে বেশ |
রোগ মুক্ত সুস্থ সবল নাগরিক পেয়ে ধন্য হবে দেশ |
তমা কর্মকারের দুটি কবিতা বেশ লাগলো। এরমধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উদ্দেশ্য করে লেখা কবিতাটির জন্য তাকে জানাই ধন্যবাদ।
ReplyDelete